মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ - ১৪:০১
‘শহীদ হোসাইনের রক্তের সঙ্গে শহীদ খামেনেয়ীর রক্তের সম্পর্ক’ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিন

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান আরবাঈনের সভ্যতাগত শিক্ষাগুলো ব্যাখ্যা করে ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁরা মাওকিব, যাত্রাপথ এবং প্রচারের বিভিন্ন সুযোগে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শাহাদাতের দর্শন এবং আল্লাহর প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি এবং আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষার মাধ্যমে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর রক্তের সঙ্গে ‘শহীদ খামেনেয়ী’-এর রক্তের সম্পর্ক বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আরাফি ১৪০৫ হিজরি শামসির আরবাঈন উপলক্ষে তাঁর কৌশলগত বিবৃতিতে আরবাঈনের ৬টি সভ্যতাগত শিক্ষা ব্যাখ্যা করেন এবং ইসলামী উম্মাহর ‘মহান শহীদ নেতা’-র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন:

এ বছরের আরবাঈন গভীর কিন্তু গৌরবময় শোকের আবহে শুরু হচ্ছে; সেই ‘শহীদ ইমাম’-কে হারানোর শোক, যিনি ছিলেন একজন সহৃদয় মারজা ও প্রজ্ঞাবান নেতা এবং যিনি তাঁর বরকতময় জীবন ইসলাম ও ইরানের মর্যাদা রক্ষায় ব্যয় করেছেন। তিনি হোসাইনের আদর্শে জীবনযাপন করেছেন এবং হোসাইনের আদর্শেই শহীদ হয়েছেন।

আরবাঈনের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাগত শিক্ষা

১. আরবাঈনের মহাকাব্য: উম্মাহর নতুন জাগরণ ও পুনরুত্থান।

২. আরবাঈনকে কেন্দ্র করে ইসলামী উম্মাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি।

৩. আশুরার স্লোগান ‘আমার মতো ব্যক্তি ইয়াজিদের মতো ব্যক্তির কাছে আনুগত্য স্বীকার করে না-এর ভিত্তিতে জিহাদ, প্রতিরোধ ও অবিচলতা।

৪. আরবাঈন এবং ‘শহীদ ইমাম’-এর প্রতিশোধ ও রক্তের দাবির আহ্বান।

৫. আরবাঈনের মহাকাব্য-জীবিকা, অর্থনীতি এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক সংগ্রামে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির কেন্দ্র।

৬. আরবাঈন-ইমাম মাহদীর (আ.) আবির্ভাবের জন্য বাস্তব প্রস্তুতির অনুশীলন।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, হোসাইনি আরবাঈন শুধু একটি বিশাল শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ গঠন এবং ইমাম মাহদী (আ.)-এর বিশ্বব্যাপী ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব প্রস্তুতির ক্ষেত্র। যখন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ এক হৃদয় ও এক কণ্ঠে কারবালার পথে যাত্রা করেন, তখন তারা ক্ষুদ্র পরিসরে ইমাম মাহদী (আ.)-এর ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করেন। এই মহাসমাবেশ সেই প্রতিশ্রুত দিনের সুসংবাদ বহন করে, যেদিন পৃথিবী ন্যায় ও সুবিচারে পূর্ণ হবে এবং সমগ্র মানবজাতি ন্যায় ও জ্ঞানের ছায়াতলে একত্রিত হবে।

আয়াতুল্লাহ আরাফি তাঁর এই বিবৃতিতে ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের বিশেষ দায়িত্বও অর্পণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, তাঁরা মাওকিব, যাত্রাপথ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রচার কার্যক্রমে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শাহাদাতের দর্শন ও আল্লাহর প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি ব্যাখ্যা করবেন এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি ও আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষার মাধ্যমে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর রক্তের সঙ্গে "শহীদ খামেনেই"-এর রক্তের সম্পর্ক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবেন।

বিবৃতির সূচনা

بسم الله الرحمن الرحیم

وَ بَذَلَ مُهْجَتَهُ فِیکَ لِیَسْتَنْقِذَ عِبَادَکَ مِنَ الْجَهَالَهِ وَ حَیْرَهِ الضَّلَالَهِ(زیارت اربعین)

এ বছরের হোসাইনি আরবাঈন আসমান ও জমিনের এক অভূতপূর্ব সংযোগের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি শুধু শহীদদের নেতা ইমাম হোসাইন (আ.)-এর জন্য শোক ও মাতমের অনুষ্ঠান নয়; বরং আশুরার ধারাবাহিকতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি, যা বর্তমান যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই যুগে হোসাইনের মহাকাব্য ইরানের সম্মানিত ও সাহসী জনগণের উপস্থিতির মহাকাব্যের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত হয়েছে।

এই আরবাঈন গভীর কিন্তু গৌরবময় শোকের ছায়ায় শুরু হচ্ছে-‘শহীদ ইমাম’-এর মৃত্যুতে, যিনি ছিলেন এক সহৃদয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রজ্ঞাবান নেতা। তিনি তাঁর বরকতময় জীবন ইসলাম ও ইরানের মর্যাদা রক্ষায় উৎসর্গ করেছেন এবং হোসাইনের আদর্শে জীবনযাপন ও শাহাদাত বরণ করেছেন।

ইরান ও ইরাকে, বিশেষ করে পবিত্র নাজাফ ও কারবালায় তাঁর ঐতিহাসিক ও জাঁকজমকপূর্ণ জানাজার মাধ্যমে এবং ইরান ও ইরাকের বিশ্বস্ত জনগণের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইসলামী উম্মাহ-বিশেষত ইরান ও ইরাকের জনগণের-বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।

অন্যদিকে, এ বছরের আরবাঈন বিশ্ব ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে-বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-এক অস্তিত্বগত ও সভ্যতাগত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সমন্বিত যুদ্ধে সামরিক, অর্থনৈতিক ও জ্ঞানগত (তথ্য ও বর্ণনা-ভিত্তিক) দিকগুলো অভূতপূর্বভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের সামরিক বাহিনী, জনগণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের হাতে ‘কঠোর আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তার অসহায়ত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে এই প্রতিরোধী জাতি, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ মুজতবা খামেনেয়ী-এর নেতৃত্ব, কুম ও নাজাফের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা এবং জনগণের ঈমান ও সচেতনতার শক্তিতে একটি ‘অপরাজেয় তাওহিদি শক্তি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ বছরের আরবাঈনের মহাসমাবেশ তাদের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় জবাব হয়ে উঠবে এবং ইসলামী উম্মাহর জাগরণের আরেকটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে।

এরপর বিবৃতিতে ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে যে, তাঁরা জ্ঞান, ধর্মপ্রচার, দিকনির্দেশনা ও সচেতনতা সৃষ্টির অগ্রদূত। তাঁদের উচিত আরবাঈনের এই সুযোগকে শহীদদের স্মৃতি ও আদর্শ-বিশেষ করে ইমাম খোমেনি ও ‘শহীদ ইমাম’-এর আদর্শ-জীবন্ত রাখা, বিপ্লব ও প্রতিরোধের বক্তব্য ব্যাখ্যা করা এবং আশা সৃষ্টির জন্য কাজে লাগানো।

৪. আরবাঈন এবং শহীদ ইমামের প্রতিশোধ ও রক্তের দাবির আহ্বান

এ বছরের আরবাঈনের মহাকাব্য হোসাইনের পথের শহীদ, সংগ্রামী নেতা ও শহীদের রক্তের প্রতিশোধের আহ্বানের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। যখন ইরান ও ইরাকে তাঁর অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক জানাজায় মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু হয় এবং বিশ্বাসীদের অন্তরের গভীর থেকে প্রতিশোধ ও রক্তের দাবির স্লোগান ধ্বনিত হয়, তখন তা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ, ইমাম হোসাইন (আ.) এবং ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতি এক অঙ্গীকার হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়।

আমাদের প্রতিশোধ হলো অত্যাচারিতের রক্তের জন্য অত্যাচারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ-যে প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কুরআনে দিয়েছেন: আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দিয়েছি। আজ এই রক্তের উত্তরাধিকারী হলো জাগ্রত ও প্রতিশোধপ্রত্যাশী উম্মাহ। সেই উম্মাহ, যারা ওই শহীদ ইমামের জানাজায় অঙ্গীকার করেছিল যে, বর্তমান যুগের অত্যাচারী, দখলদার ও ইয়াজিদদের সম্পূর্ণ বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিশোধের দাবি থেকে সরে আসবে না। ইনশাআল্লাহ, এ বছরের আরবাঈনে ‘ইয়া লাসারাতিল হুসাইন" (হোসাইনের রক্তের প্রতিশোধের আহ্বান) স্লোগান ‘ইয়া লাসারাতিল খামেনেয়ী’ স্লোগানের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই প্রতিশোধকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, কৌশলগত, বৈশ্বিক ও সভ্যতাগত ধারণা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এই ভিত্তিতে ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তাঁরা মাওকিব, যাত্রাপথ এবং প্রচারের বিভিন্ন সুযোগে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শাহাদাতের দর্শন এবং আল্লাহর প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি ব্যাখ্যা করবেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি এবং আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষার মাধ্যমে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর রক্তের সঙ্গে ‘শহীদ খামেনেয়ী’-এর রক্তের সম্পর্ক বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবেন। বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ আলেমদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা এই আরবাঈনের বার্তা-অর্থাৎ ‘শহীদ ইমামের রক্তের দাবি’ এবং ‘সময়ের ইয়াজিদদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান’-বিভিন্ন ভাষায় অ-ইরানি তীর্থযাত্রী ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা জাতিগুলোর কাছে পৌঁছে দেবেন।

৫. আরবাঈনের মহাকাব্য: জীবিকা, অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক সংগ্রামে সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার কেন্দ্র

বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন শত্রুপক্ষ সমন্বিত যুদ্ধ, সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোর ওপর আঘাতের মাধ্যমে জনগণকে হতাশ করার চেষ্টা করছে, তখন মুমিনদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি এবং দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতিরোধের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ ইসলামী উম্মাহর সবচেয়ে বড় শক্তি।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো; দেহের কোনো অঙ্গ অসুস্থ হলে সমগ্র দেহ জেগে থাকে এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়।

মুমিনরা সুখ-দুঃখে একে অপরের অংশীদার এবং কখনোই নিজেদের ভাইদের কষ্ট থেকে উদাসীন থাকে না। এটিই আরবাঈনের মূল চেতনা। এখানে যিয়ারতকারীদের সেবা করতে গিয়ে মানুষ বস্তুগত হিসাব-নিকাশকে পাশ কাটিয়ে যায় এবং নিজেদের সামান্য সম্পদ থেকেও অন্যের প্রয়োজন পূরণে কার্পণ্য করে না।

এই কারণে আরবাঈন জীবিকা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাস্তব সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদর্শনের সর্বোত্তম সুযোগ এবং এটি "প্রতিরোধী অর্থনীতি" বাস্তবায়নের ক্ষেত্র হতে পারে।

ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তাঁরা মাওকিব ও আরবাঈনের সমাবেশে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির সংস্কৃতি প্রচার করবেন এবং বিশেষ করে আরবাঈনের সময় অভাবগ্রস্তদের সহায়তায় মানুষকে উৎসাহিত করবেন। একই সঙ্গে আরবাঈনকে প্রতিরোধী অর্থনীতি ও সামাজিক সংহতির বাস্তব প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করবেন।

এছাড়া মানুষকে সংযমী ভোগ, খাদ্য ও সম্পদের অপচয় এড়ানো এবং সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। যিয়ারতকারীদের সেবা যেন আয়োজকদের অবস্থা বিবেচনা করে এবং সম্পদের সংরক্ষণ নিশ্চিত করে-এ বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এছাড়া ধর্মপ্রচারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তাঁরা মানুষকে আরবাঈনের সময়ের বাইরেও দাতব্য কার্যক্রম ও অভাবগ্রস্তদের সহায়তায় উৎসাহিত করবেন এবং দেখাবেন যে, এই সামাজিক সংহতিই অর্থনৈতিক সংকট অতিক্রমের প্রধান উপায়।

৬. আরবাঈন: আবির্ভাবের প্রস্তুতির বাস্তব অনুশীলন

একই সঙ্গে মুসলিম রাষ্ট্র ও জনগণের উচিত ইসলামী বিশ্বের অর্থনীতির উন্নয়ন এবং জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে বৃহৎ অর্থনৈতিক সংগ্রামে অংশ নেওয়া।

হোসাইনি আরবাঈন শুধু একটি বিশাল শোকসমাবেশ নয়; বরং এটি একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ গঠন এবং ইমাম মাহদী (আ.)-এর বিশ্বব্যাপী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তব প্রস্তুতির অনুশীলন। যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ এক হৃদয় ও এক কণ্ঠে কারবালায় সমবেত হন, তখন তারা ক্ষুদ্র পরিসরে ইমাম মাহদী (আ.)-এর ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করেন। এই বিশাল ঐক্য সেই প্রতিশ্রুত দিনের সুসংবাদ বহন করে, যেদিন পৃথিবী ন্যায় ও সুবিচারে পূর্ণ হবে এবং সমগ্র মানবজাতি ন্যায় ও জ্ঞানের ছায়াতলে সমবেত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের শহীদ ইমাম’ তাঁর সমগ্র জীবন এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে ব্যয় করেছেন এবং নিজের রক্তের মাধ্যমে নিজেকে ইমাম মাহদী (আ.)-এর সহচর ও তাঁর আবির্ভাবের পথের আত্মত্যাগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজ আরবাঈনকে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর রক্ত এবং ‘শহীদ ইমাম’-এর রক্তকে আবির্ভাবের দিগন্তের সঙ্গে যুক্তকারী সেতু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ, এই সমাবেশ যত বেশি উৎসাহব্যঞ্জক, সুসংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে, ‘সত্যের শত্রুরা’ তত দুর্বল হবে এবং আবির্ভাবের ক্ষেত্র তত বেশি প্রস্তুত হবে।

এরপর ছাত্র, আলেম ও ধর্মপ্রচারকদের জন্য কয়েকটি দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে:

  • বক্তব্য ও আচরণের মাধ্যমে ‘আবির্ভাবের দিগন্ত’ তুলে ধরা।
  • যিয়ারতকারীদের কাছে আরবাঈন ও মাহদীবাদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা।
  • মাহদীবাদ-সংক্রান্ত শিক্ষা ও বর্ণনার মাধ্যমে আশা ও ইতিবাচক প্রতীক্ষার মনোভাব জাগ্রত রাখা।
  • বিভেদ, পার্থিব মোহ, হতাশা ও অজ্ঞতার মতো ‘আবির্ভাবের প্রতিবন্ধকতা’ ব্যাখ্যা করা এবং কুরআন ও আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষার আলোকে তার সমাধান তুলে ধরা।
  • অ-ইরানি যিয়ারতকারী ও বিভিন্ন জাতির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
  • ইবাদত, সংগ্রাম, জ্ঞানার্জন, নৈতিকতা এবং সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতির সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রকৃত প্রতীক্ষাকারীর জীবনধারা’ শিক্ষা দেওয়া।

শেষে একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে: মুক্তির ত্বরান্বিত হওয়ার জন্য বেশি বেশি দোয়া করো; কারণ সেটিই তোমাদের মুক্তি।

এরপর বিবৃতিতে আরবাঈন উপলক্ষে নিরাপত্তা, জনসমাবেশ, দেশব্যাপী কর্মসূচি এবং জাতীয় ঐক্য সম্পর্কিত আরও কিছু নির্দেশনা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে এবং শেষ করা হয়েছে এই বাক্য দিয়ে: বিজয় একমাত্র পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

আলিরেজা আরাফি
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালক।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha